সিলেট সুপারস্টারসের মালিক আজিজুল ইসলাম কী একটা বলতেই রেগে ড্রেসিংরুমে ঢুকে পড়েছিলেন তামিম ইকবাল। চিটাগং ভাইকিংসের উপদেষ্টা আকরাম খান অবশ্য ছাড়েননি উদ্ধত ওই ব্যবসায়ীকে। পরে মাঠে খেলা গড়ানোয় মনে হচ্ছিল বিষয়টির সুরাহা বোধ হয় তখনই হয়ে গেছে। কিন্তু ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে ক্ষুব্ধ চিটাগং ভাইকিংস অধিনায়কের প্রতিটি শব্দে বোঝা গেল প্রতিপক্ষ ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকের অপমান তিনি ভোলেননি। তামিমের বয়ানে সে ঘটনা শুনলে অবশ্য কেউই ভুলতে পারবেন না। পাঠকদের জন্য তুলে দেওয়া হলো তাঁর সবটুকু ক্ষোভ।
প্রশ্ন : শেষ বলের পরও দেখা যাচ্ছিল আপনি নিশ্চিত হতে চাচ্ছেন খেলা শেষ হয়েছে কি না। কেন?
তামিম ইকবাল : এত কিছু হচ্ছিল তাই আমি জিজ্ঞেস করছিলাম যে খেলা কি আসলেও শেষ হয়েছে কি না? আম্পায়ারকে জিজ্ঞেস করে খুশিতে ওনার সঙ্গেও কোলাকুলি করে ফেলেছি!
প্রশ্ন : শুরুর ঘটনাটা একটু বলবেন?
তামিম : আমি সত্যি সব খুলে বলব। টস কী কারণে দেরি হচ্ছে, তা আমি জানতাম না। আমি ম্যাচ রেফারিকে গিয়ে তা জিজ্ঞেস করি। উনি জানান যে, টেকনিক্যাল কমিটি ওদের কয়েকজন খেলোয়াড় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ওদের নাকি এনওসি নিয়ে সমস্যা আছে। যেহেতু ওনারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাই আমার অপেক্ষা করতে কোনো সমস্যা ছিল না। ১টা ৪০ মিনিটে টস হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেটা হয়েছে ১টা ৫৫তে। তারপর সিদ্ধান্ত হলো যে যাঁদের এনওসি নাই, তাঁদের নিয়ে খেলা যাবে না; ম্যাচ রেফারি ও টেকনিক্যাল কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তারপর টিম লিস্ট দেখলাম। সেটাতে মুনাবীরা ও মেন্ডিসের নাম ছিল। ওদের ক্যাপ্টেন একটা কপি নিয়ে এসেছিল। নরমালি তিনটি কপি নিয়ে আসতে হয়। ম্যাচ রেফারিকে জিজ্ঞেস করলাম আমার কপি কোথায়? উনি বললেন যে, ‘টস করো। তোমার কাছে পাঠিয়ে দেব।’ টস করার পর যখন ব্যাটিংয়ে নামি, তখন দেখলাম যে ওদের চারজন বিদেশি ক্রিকেটার। ওদের সঙ্গে জসুয়া কব ও রবি বোপারা। জিজ্ঞেস করলাম এটা কী হলো। তখন বলল যে এটা করার অনুমতি দিয়েছে। আমি ওখান থেকে তারপর চলে আসি। এরপর ম্যাচ রেফারি, আম্পায়ার ও বোর্ডের সবাই আসলেন। এরপর তো খেলা হলোই। একটা জিনিস আমি সবাইকে বলতে চাই, জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সম্মান করা উচিত। ফ্র্যাঞ্চাইজিদের পয়সা আছে, তার মানে এই না যে জাতীয় দলের একজন খেলোয়াড়কে ভিক্ষুকের মতো ট্রিট করবে। খেলোয়াড়দের সম্মান প্রদর্শন করা উচিত। আমি এখানে খেলতে এসেছি। আমার মা-বাবা, আমার পরিবারের ব্যাপারে গালি শুনতে আসিনি।
প্রশ্ন : ফ্র্যাঞ্চাইজিদের হাতে নিগ্রহ হওয়াটা কি বিপিএল জাতীয় টুর্নামেন্টের সবচেয়ে পীড়াদায়ক দিক? তামিম : আমি ওই মানুষটার (সিলেটের মালিক) প্রতি যথেষ্ট সম্মান দেখিয়ে তাঁকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করেছিলাম। তাঁকে স্যার, স্যার বলেও সম্মান করেছি। তিনি আমাকে বলেছিলেন, দাঁড়িয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে। আমি সেই কাজটিও করেছি। এরপর তিনি আমার পরিবার নিয়ে খুব বাজে মন্তব্য করে বসেন, যেটা খুব অপ্রীতিকর। অনেক মানুষের কাছেই টাকা থাকতে পারে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে জাতীয় দলের খেলোয়াড়কে রাস্তার ফকিরের মতো ট্রিট করবেন। তাঁর থেকে হাজার হাজার গুণ বেশি টাকা আইপিএল মালিকদের। আমি আইপিএলে খেলার সুযোগ পাইনি কিন্তু একটি দলে ছিলাম। আমি ওখানে থেকে সব দেখেছি, তারা কিভাবে একজন ক্রিকেটারকে মূল্যায়ন করে।
প্রশ্ন : তাঁর নামটা কি বলবেন?
তামিম : আমি তাঁর নাম নিতে চাচ্ছি না। আপনারা তাঁকে দেখেছেন। আমি তাঁকে স্যার বলেও সম্বোধন করেছি। এর থেকে বেশি আমি তাঁকে সম্মান দেখাতে পারি না। ওই মানুষই যদি আমাকে আমার বাবা-মা নিয়ে খারাপ কথা বলেন, তাহলে কিন্তু আমি যা ইচ্ছে তাই করতে পারি।
প্রশ্ন : এ ঘটনা নিয়ে কি নালিশ করবেন বিপিএল কমিটির কাছে?
তামিম : আমি বিশ্বাস করি আমি বিসিবির একটা অংশ। বিসিবির ডিসিপ্লিনারি কমিটি অবশ্যই এটা নিয়ে পদক্ষেপ নেবে। আমাদের কিভাবে সম্মান দেবে সেটা নিয়ে ভাববে। তাঁরা যদি আমাদের ভিক্ষুকের মতো ট্রিট করা শুরু করে তাহলে আমাদের খেলাই ছেড়ে দেওয়া উচিত।
প্রশ্ন : ওভাবে তুলে তুলে মারলেন কি সেই রাগ থেকেই?
তামিম : না। তবে আমি ওই মানসিকতায় ছিলাম না যে আমি খেলতে নামব। কারণ এত কিছুর পর ক্রিকেট খেলা যায় না। আমি খুব লাকি যে আমি ইনিংসটি খেলতে পেরেছি।
SOURCE

No comments